ওয়াটারলু যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করো

ওয়াটারলু যুদ্ধ -

১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে লাইজিগের যুদ্ধে মিত্রশক্তির কাছে পরাজয়ের ফলে নেপোলিয়নকে এলবা দ্বীপে নির্বাসন করা হয়েছিল। কিন্তু ইউরোপের জটিল পরিস্থিতির সুযোগে নেপোলিয়ন ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় ফ্রান্সের সিংহাসন দখল করলে মিত্রশক্তি আবার তাঁর বিরুদ্ধে সক্রিয় আক্রমণ শুরু করে। নিন্মে ওয়াটারলু যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করা হল -

আক্রমণের উদ্যোগ ঃ মিত্রশক্তি নেপোলিয়নকে 'আইন-বহির্ভূত ব্যক্তি' রুপে আখ্যায়িত করে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্রান্সের ওপর আক্রমণের উদ্যোগ নেয়।

চূড়ান্ত আক্রমণ ঃ প্রাশিয়া, রাশিয়া। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মিলিত সেনাদল বিভিন্ন দিক থেকে ফ্রান্স আক্রমণ শুরু করে। চারিদিক থেকে আসা তীব্র আক্রমণের পরেও নেপোলিয়নের বাহিনী ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম পর্যায়ে লিঞ্জি ও কোয়াটার ব্রাসের যুদ্ধে মিত্রশক্তিকে পরাজিত করে।

ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঃ নেপোলিয়ন প্রথম পর্যায়ে জয়লাভ করলেও ব্রিটিশ সেনাপতি ডিউক অব ওয়েলিংটন বা আর্থার ওয়েলেসলির কাছে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন ওয়াটারলু-র যুদ্ধে নেপোলিয়ন চূড়ান্ত ভাবে পরাজিত হয় এবং ১৫ জুলাই নেপোলিয়ন ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

নেপোলিয়নকে নির্বাসন ঃ ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয় ঘটলে বিজয়ী মিত্রশক্তি তাঁকে আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করে। সেখানে অনাদরে নেপোলিয়ন তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলি কাটাতে থাকে, অবশেষে ১৮২১ খ্রিস্টাব্দের ৫ মে তাঁর মৃত্যু ঘটে। 

মূল্যায়ন ঃ নেপোলিয়ন তথা আধুনিক ইউরোপের একটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হল ১৮১৫  খ্রিস্টাব্দের ওয়াটারলু যুদ্ধ। বেলজিয়ামে অবস্থিত এই যুদ্ধক্ষেত্রটিকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন ভাবে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলটির মাঝখানে একটি টিলার ওপর নেপোলিয়নের একটি সুবিশাল ধাতব মূর্তি বসানো আছে। 

আরও পড়ুন ঃ

Post a Comment

Previous Post Next Post