শত দিবসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো

শত দিবসের রাজত্ব - 

১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ শক্তিজোটের কাছে পরাজিত হলে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নকে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়। নেপোলিয়ন নির্বাসনে থেকেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। তিনি তাঁর হারানো ক্ষমতা ফিরে পাবার জন্য বিভিন্ন সুযোগ খুঁজতে থাকেন। নিন্মে নেপোলিয়নের 'শত দিবসের রাজত্ব' সম্পর্কে আলোচনা করা হল -

ইউরোপের পরিস্থিতি ঃ নির্বাসিত থাকা অবস্থায় ইউরোপের ওপর নজর রেখেছিলেন। এই সময় ইউরোপে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। যেমন -

     (i) এই সময় ফ্রান্সের সিংহাসনে অষ্টাদশ লুই বসেছিলেন। কিন্তু তিনি শীঘ্রই ফ্রান্সের জনগণের কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

     (ii) ভিয়েনা সম্মেলনে বিজয়ী শক্তিবর্গের মধ্যে মতবিরোধ দেখা যায়। 

নেপোলিয়নের ফ্রান্সে প্রত্যাবর্তন ঃ নেপোলিয়নের নির্বাসনকালে ফ্রান্স-সহ ইউরোপে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এই পরিস্থিতির সুযোগে নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপের নির্বাসন ত্যাগ করে গোপনে ফ্রান্সে ফিরে আসেন। ১০৫০ জন সৈন্য নিয়ে তিনি ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ ফ্রান্সের কান শহরে হাজির হন। এরপর তিনি রাজধানী প্যারিসের দিকে অগ্রসর হন।

জনগণের অভ্যর্থনা ঃ প্যারিসে যাত্রাকালে ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ নেপোলিয়নকে বিপুল অভ্যর্থনা জানায়। বহু সেনা তাঁর পক্ষে যোগ দিলে তিনি গ্রেনবল শহরে পৌঁছে ঘোষণা করেন যে, তিনি আবার ফিরে এসেছেন কারণ দেশের কৃষকদের স্বার্থরক্ষা করতে হবে, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং বিদেশিদের কাছ থেকে ফ্রান্সকে রক্ষা করতে হবে।

নিজেকে 'সম্রাট' হিসাবে ঘোষণা ঃ লিঁয় নগরে পৌঁছে নেপোলিয়ন নিজেকে ফ্রান্সের 'সম্রাট' হিসাবে ঘোষণা করেন। এরফলে ফ্রান্সের রাজা অষ্টাদশ লুই সিংহাসন ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই সময়কালে নেপোলিয়ন প্যারিসে এসে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত মোট ১০০ দিন রাজত্ব করেছিলেন। নেপোলিয়নের এই ১০০ দিনের শাসন পৃথিবীর ইতিহাসে 'শতদিবসের রাজত্ব' নামে পরিচিত।

মূল্যায়ন ঃ নির্বাসন ত্যাগ করে নেপোলিয়ন আবার ক্ষমতা দখল করলেও শক্তিশালী সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। নেপোলিয়ন দ্বিতীয়বার সিংহাসনে বসলে শক্তিশালী মিত্রশক্তি তথা চতুর্থ শক্তিজোট আবার নেপোলিয়নের ওপর আক্রমণ করে। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন ওয়াটারলু-র যুদ্ধে পরাজিত হন। এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে নেপোলিয়নকে সারা জীবনের জন্য সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন করা হয়। বাকি জীবন নেপোলিয়ন এই দ্বীপেই কাটিয়েছিলেন। অবশেষে ১৮২১ খ্রিস্টাব্দের ৫ মে এই মহান যোদ্ধার জীবনাবসান ঘটে।


আরও পড়ুন -

Post a Comment

Previous Post Next Post